কোচবিহার: খাদ্য নিরাপত্তা সপ্তাহ উপলক্ষে কোচবিহার শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টির দোকান এবং পুরনো রেস্তোরাঁগুলিতে বিশেষ অভিযান চালাল জেলা প্রশাসন ও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। মঙ্গলবার জেলাশাসক জীতিন যাদবের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল খাদ্যদ্রব্যের গুণমান, দোকানের পরিচ্ছন্নতা এবং খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযানের আগে থেকেই ব্যবসায়ীদের দোকান ও রান্নার জায়গায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন, কর্মীদের পরিচ্ছন্নতা এবং সামগ্রিক হাইজিন ব্যবস্থা ঠিক রাখার বিষয়েও ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হয়।
মঙ্গলবারের অভিযানে শহরের একাধিক মিষ্টির দোকান ও পুরনো রেস্তোরাঁয় গিয়ে পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন প্রশাসন ও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। দোকানের রান্নাঘর, খাদ্য সংরক্ষণের জায়গা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা-সহ বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়।
অভিযানে দেখা যায়, আগের তুলনায় অধিকাংশ দোকানেই পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে বেশ কিছুটা উন্নতি হয়েছে। দোকান মালিকদের মধ্যে সচেতনতার ছবিও দেখা গিয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। তবে কয়েকটি দোকানে এখনও প্রয়োজনীয় হাইজিন ও স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। নিয়ম না মানা সেই সমস্ত দোকানকে সতর্ক করে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে বিভিন্ন খাদ্য বিক্রয়কেন্দ্র, মিষ্টির দোকান ও রেস্তোরাঁয় নজরদারি ও অভিযান চালানো হবে। একইসঙ্গে ব্যবসায়ীদেরও খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম মেনে চলার জন্য সচেতন করা হবে।
জানা গিয়েছে, শুধু কোচবিহার শহরেই নয়, জেলার বিভিন্ন পৌরসভা এলাকাতেও একাধিক খাদ্য বিক্রয়কেন্দ্রে এই ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগে খাদ্যের গুণমান ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
